আত্মশক্তি ফাউন্ডেশন

ভূমিকা গীতার ধ্যান প্রথম অধ্যায় : অর্জুনবিষাদযোগ দ্বিতীয় অধ্যায় : সাংখ্যযোগ তৃতীয় অধ্যায় : কর্মযোগ চতুর্থ অধ্যায় : জ্ঞানযোগ পঞ্চম অধ্যায় : সন্ন্যাসযোগ ষষ্ঠ অধ্যায় : ধ্যানযোগ সপ্তম অধ্যায় : জ্ঞান-বিজ্ঞান-যোগ অষ্টম অধ্যায় : অক্ষর-ব্রহ্মযোগ নবম অধ্যায় : রাজবিদ্যা-রাজগুহ্য-যোগ দশম অধ্যায় : বিভূতিযোগ একাদশ অধ্যায় : বিশ্বরূপ-দর্শনযোগ দ্বাদশ অধ্যায় : ভক্তিযোগ ত্রয়োদশ অধ্যায় : ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ-বিভাগযোগ চতুর্দশ অধ্যায় : গুণত্রয়-বিভাগযোগ পঞ্চদশ অধ্যায় : পুরুষোত্তমযোগ ষোড়শ অধ্যায় : দৈবাসুর-সম্পদ-বিভাগযোগ সপ্তদশ অধ্যায় : শ্রদ্ধাত্রয়-বিভাগযোগ অষ্টাদশ অধ্যায় : মোক্ষযোগ গীতা-মাহাত্ম্য
দ্বাদশ অধ্যায়

॥ ॐ श्री परमात्मने नमः ॥

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

अथ द्वादशोऽध्यायः ।  भक्तियोगः

অথ দ্বাদশ অধ্যায়
ভক্তিযোগ

Chapter 12 - Bhakti Yoga - The Yoga of Devotion

 

থকেে শুরু করে সাধারণ পাঠক অনকেইে শুদ্ধভাবে সংস্কৃত উচ্চারণ করতে পারনে না। সংস্কৃত ভাষা শক্ষিা ও র্চচার অভাবইে এই সমস্যাটা দখো যায়। সংস্কৃত ভাষার শ্লোক বা মন্ত্র বাংলা অক্ষরে লখো হলওে এর উচ্চারণ মূল সংস্কৃত ভাষার উচ্চারণরে নয়িম অনুযায়ী হব।ে যমেনÑ
গীতা সংহতিা ।  ৮৯
১। র্সবদা স্মরণীয় সংস্কৃতে ঠকি যে যে র্বণ দ্বারা শব্দ গঠতি হয়, প্রতটিি র্বণকে হুবহু তার মতো করইে উচ্চারণ করতে হয়। যমেন- গীতার ১ম শ্লোকরে ‘কমির্কুবত’ শব্দটি উচ্চারণ করতে হবে ‘কম্র্অিকুবত্অ’। এখানে ‘ম’ এবং ‘ত’-এর উচ্চারণ ‘ম্+অ’ এবং ‘ত্+অ’। কোন র্বণরে শষেে হস্ ( ্) চহ্নি না থাকলে সখোনে ‘অ’ উচ্চারণ থাকব।ে ২। সংযুক্ত র্বণ সংযুক্ত প্রতটিি র্বণরে ¯^তন্ত্র উচ্চারণ করতে হয়। যমেন- আত্মা = আৎমা, যজ্ঞ = ইয়জ্ঞ, ব্রহ্ম = ব্রহ্ম্অ, তীক্ষè = তীক্ষ্ন, ল²ী = লক্ষ্মী, কৃষ্ণ = কৃষ্ণ, র্ধমক্ষত্রেে = র্ধমক্ষত্রে।ে ৩। বর্সিগ (ঃ) কোন পদে যে ¯^ররে পরে বর্সিগ থাকবে সইে ¯^ররে স্থান হতে ‘র্অধ হ’ (হ্)-এর মতো উচ্চারণ করতে হব।ে যমেন- ‘মামকাঃ’ শব্দটার উচ্চারণ হবে ‘মামকাহ্’, সঞ্জয়ঃ = সন্জয়হ্, ‘দুঃখ’ = ‘দুহ্খ’। ৪। য ও য-ফলা ( ্য ) য-এর উচ্চারণ হবে ‘ইয়’-এর মতো। যমেনÑ ‘যম’ 
৯০ ।  গীতা সংহতিা
এর উচ্চারণ হবে ‘ইয়ম’। এভাবে যুদ্ধ = ইয়ুদ্ধ, কাম্য = কাম্ইয়, ক্লব্যৈং = ক্লব্ইৈয়ং। ৪। ব-ফলা ব-ফলার উচ্চারণ হবে ‘উয়’-এর মতো। যমেন- অম্ব = অম্উয়, বদ্বিান = বদ্উিয়ান্অ, ত্বাং = ত্উয়াং। ৫। স, ষ, শ দন্ত্য স-এর উচ্চারণ দন্তমূল,ে কছিুটা বাংলা ‘ছ’-এর কাছাকাছ।ি দন্ত্য স র্বণটি বস্তু, অস্ত, সমস্ত, আস্তকি শব্দসমূহরে ‘স’-এর মতো র্সবদা উচ্চারতি হব।ে র্মূধণ্য ষ-এর উচ্চারণস্থান র্মূধা র্অথাৎ দন্তমূলরে পছেনে খাঁজকাটা অংশ।ে যমেনÑ পাষণ্ড, কুষ্মাণ্ড, ষড়যন্ত্র ইত্যাদ।ি তালব্য শ-এর উচ্চারণস্থান র্মূধার পছেনে মসৃণ তালুত।ে যমেনÑ শারদীয়, শালা, শশী। ৬। র, ড় ও ঢ় র-এর উচ্চারণ ‘বার’ি, ‘বর’ শব্দরে ‘র’-এর মতো দন্তমূল।ে ড়-এর উচ্চারণ বাড়,ি বড় শব্দরে মতো র্মূধায়। অপরদকিে ‘ঢ়’-এর উচ্চারণ ব্যূঢ়ং, আষাঢ় শব্দরে ঢ়-এর মতো তালুত।ে
গীতা সংহতিা ।  ৯১
৭। ন ও ণ দন্ত্য ন-এর উচ্চারণ হয় দন্তমূল।ে যমেনÑ ননৈং, নানান, অনকে ইত্যাদ।ি র্মূধণ্য ণ উচ্চারণ করতে জহ্বিার অগ্রভাগ উল্টয়িে র্মূধা র্স্পশ করতে হয়। যমেনÑ পাণ্ডব, প্রণব, শষ্যিণে ইত্যাদ।ি ৮।  হ্র¯^ ও র্দীঘ ¯^র ‘হ্র¯^ ¯^র’ হ্র¯^ র্অথাৎ কম চাপ দয়িে এবং ‘র্দীঘ ¯^র’ র্দীঘ র্অথাৎ বশেী চাপ দয়িে উচ্চারণ করতে হব।ে যমেন- অনীক = অন্ইইক্অ, চমূম্ = চম্উউম্। ৯। লুপ্ত অ ( ) সংস্কৃত শ্লোকরে পদসমূহরে মাঝে অনকে সময় ‘মাত্রাহীন হ’ ( )-এর মতো একটা র্বণ দখো যায়। অনকেইে একে বাংলা হ-এর মতো উচ্চারণ করনে। এটা ভুল। ‘ ’ -এটা হ নয়, বরং লুপ্ত ‘অ’। র্অথাৎ ‘অ’ উচ্চারণ করতে যতটুকু কণ্ঠে জোর দতিে হয়  উচ্চারণ করতে তার চয়েওে কম জোর দতিে হয়। যমেনÑ মে চ্যুত, সো হং, শ্রয়েো নুপশ্যামি ইত্যাদ।ি

দ্ধ সংস্কৃত উচ্চারণবিধি পুরোহিত থেকে শুরু করে সাধারণ পাঠক অনেকেই শুদ্ধভাবে সংস্কৃত উচ্চারণ করতে পারেন না। সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা ও চর্চার অভাবেই এই সমস্যাটা দেখা যায়। সংস্কৃত ভাষার শ্লোক বা মন্ত্র বাংলা অক্ষরে লেখা হলেও এর উচ্চারণ মূল সংস্কৃত ভাষার উচ্চারণের নিয়ম অনুযায়ী হবে। যেমনÑ
গীতা সংহিতা ।  ৮৯
১। সর্বদা স্মরণীয় সংস্কৃতে ঠিক যে যে বর্ণ দ্বারা শব্দ গঠিত হয়, প্রতিটি বর্ণকে হুবহু তার মতো করেই উচ্চারণ করতে হয়। যেমন- গীতার ১ম শ্লোকের ‘কিমকুর্বত’ শব্দটি উচ্চারণ করতে হবে ‘কিম্অর্কুবত্অ’। এখানে ‘ম’ এবং ‘ত’-এর উচ্চারণ ‘ম্+অ’ এবং ‘ত্+অ’। কোন বর্ণের শেষে হস্ ( ্) চিহ্ন না থাকলে সেখানে ‘অ’ উচ্চারণ থাকবে। ২। সংযুক্ত বর্ণ সংযুক্ত প্রতিটি বর্ণের ¯^তন্ত্র উচ্চারণ করতে হয়। যেমন- আত্মা = আৎমা, যজ্ঞ = ইয়জ্ঞ, ব্রহ্ম = ব্রহ্ম্অ, তীক্ষè = তীক্ষ্ন, ল²ী = লক্ষ্মী, কৃষ্ণ = কৃষ্ণ, ধর্মক্ষেত্রে = ধর্মক্ষেত্রে। ৩। বিসর্গ (ঃ) কোন পদে যে ¯^রের পরে বিসর্গ থাকবে সেই ¯^রের স্থান হতে ‘অর্ধ হ’ (হ্)-এর মতো উচ্চারণ করতে হবে। যেমন- ‘মামকাঃ’ শব্দটার উচ্চারণ হবে ‘মামকাহ্’, সঞ্জয়ঃ = সন্জয়হ্, ‘দুঃখ’ = ‘দুহ্খ’। ৪। য ও য-ফলা ( ্য ) য-এর উচ্চারণ হবে ‘ইয়’-এর মতো। যেমনÑ ‘যম’ 
৯০ ।  গীতা সংহিতা
এর উচ্চারণ হবে ‘ইয়ম’। এভাবে যুদ্ধ = ইয়ুদ্ধ, কাম্য = কাম্ইয়, ক্লৈব্যং = ক্লৈব্ইয়ং। ৪। ব-ফলা ব-ফলার উচ্চারণ হবে ‘উয়’-এর মতো। যেমন- অম্ব = অম্উয়, বিদ্বান = বিদ্উয়ান্অ, ত্বাং = ত্উয়াং। ৫। স, ষ, শ দন্ত্য স-এর উচ্চারণ দন্তমূলে, কিছুটা বাংলা ‘ছ’-এর কাছাকাছি। দন্ত্য স বর্ণটি বস্তু, অস্ত, সমস্ত, আস্তিক শব্দসমূহের ‘স’-এর মতো সর্বদা উচ্চারিত হবে। মূর্ধণ্য ষ-এর উচ্চারণস্থান মূর্ধা অর্থাৎ দন্তমূলের পেছনে খাঁজকাটা অংশে। যেমনÑ পাষণ্ড, কুষ্মাণ্ড, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি। তালব্য শ-এর উচ্চারণস্থান মূর্ধার পেছনে মসৃণ তালুতে। যেমনÑ শারদীয়, শালা, শশী। ৬। র, ড় ও ঢ় র-এর উচ্চারণ ‘বারি’, ‘বর’ শব্দের ‘র’-এর মতো দন্তমূলে। ড়-এর উচ্চারণ বাড়ি, বড় শব্দের মতো মূর্ধায়। অপরদিকে ‘ঢ়’-এর উচ্চারণ ব্যূঢ়ং, আষাঢ় শব্দের ঢ়-এর মতো তালুতে।
গীতা সংহিতা ।  ৯১
৭। ন ও ণ দন্ত্য ন-এর উচ্চারণ হয় দন্তমূলে। যেমনÑ নৈনং, নানান, অনেক ইত্যাদি। মূর্ধণ্য ণ উচ্চারণ করতে জিহ্বার অগ্রভাগ উল্টিয়ে মূর্ধা স্পর্শ করতে হয়। যেমনÑ পাণ্ডব, প্রণব, শিষ্যেণ ইত্যাদি। ৮।  হ্র¯^ ও দীর্ঘ ¯^র ‘হ্র¯^ ¯^র’ হ্র¯^ অর্থাৎ কম চাপ দিয়ে এবং ‘দীর্ঘ ¯^র’ দীর্ঘ অর্থাৎ বেশী চাপ দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে। যেমন- অনীক = অন্ইইক্অ, চমূম্ = চম্উউম্। ৯। লুপ্ত অ ( ) সংস্কৃত শ্লোকের পদসমূহের মাঝে অনেক সময় ‘মাত্রাহীন হ’ ( )-এর মতো একটা বর্ণ দেখা যায়। অনেকেই একে বাংলা হ-এর মতো উচ্চারণ করেন। এটা ভুল। ‘ ’ -এটা হ নয়, বরং লুপ্ত ‘অ’। অর্থাৎ ‘অ’ উচ্চারণ করতে যতটুকু কণ্ঠে জোর দিতে হয়  উচ্চারণ করতে তার চেয়েও কম জোর দিতে হয়। যেমনÑ মে চ্যুত, সো হং, শ্রেয়ো নুপশ্যামি ইত্যাদি।

 

 

 

 

 

কালজয়ী দার্শনিক ধর্মগ্রন্থ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ নামটির অর্থ শ্রীভগবানের গান বা বাণী। সংক্ষেপে বলা হয় ‘গীতা’। এই গ্রন্থটি বিশ্বের সর্বকালের সর্ববৃহৎ ঐতিহাসিক মহাকাব্য মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস রচিত মহাভারত-এর ভীষ্ম পর্বের একটি অংশ। মহাভারতে রয়েছে হস্তিনাপুর সা¤্রাজ্যের কাহিনী, ধর্ম-অধর্মের সংঘর্ষের কাহিনী। এই রাজ্যে ধার্মিক পাণ্ডুপুত্রদের ন্যায্য অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের বারবার হত্যাচেষ্টা, অপমান ও ছল-চাতুর্যের মাধ্যমে বঞ্চিত করেছিল ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণ। দুর্যোধনদের অধর্ম, অত্যাচার দমন করে ন্যায় ও কল্যাণময় ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য পাণ্ডবগণ তীর্থভূমি কুরুক্ষেত্রে কৌরবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সমবেত হয়। এসময় প্রতিপক্ষে আত্মীয়-¯^জনদের দেখে বিহŸল হয়ে পড়েন অর্জুন। তখন অর্জুনকে ধর্মযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর রথের সারথি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে জ্ঞান প্রদান করেছিলেন তাই হলো গীতা। সেদিন ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩১৪৩ অব্দের ১৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার, কৃষ্ণা একাদশী তিথি, কার্তিক মাসের ২১ তারিখ (পি. ভি. হোলে, উইকিপিডিয়া)। বর্তমান ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে কুরুক্ষেত্র একটি জেলা। সেখানে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক অর্জুনকে গীতাজ্ঞান দানের স্থানটি এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। রণক্ষেত্রে ধর্মযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার জন্য গীতার অবতারণা হলেও অর্জুন-শ্রীকৃষ্ণের 
 
কথোপকথনে আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মের নানান সোপান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নানান মত-পথ, সাধনমার্গ ও ধর্মদর্শনের সমš^য় সাধিত হয়েছে এই ধর্মসংবাদে। এই শাস্ত্রে সমগ্র বেদের জ্ঞানের সারসংক্ষেপ সন্নিবিষ্ট হয়েছে। তাই গীতার জ্ঞান বেদেরই জ্ঞান। সেই জ্ঞানই এই ‘গীতা সংহিতা’ গ্রন্থে অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। অর্জুনকে উপলক্ষ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমগ্র মানবজাতির জন্যই শাশ্বত এই পবিত্র গীতাজ্ঞান প্রদান করেছেন। আমরা প্রত্যেক মানুষই জীবনের কর্মক্ষেত্রে হতাশা আর কামনায় মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ি। মোহরূপ অন্ধকারে এই গীতার বাণীতে আমরা কল্যাণ ও সত্যের আলো খুঁজে পাই; শত অশান্তির মাঝেও শান্তির আশ্রয় খুঁজে পাই। তাই অর্জুনের মতো আমরা প্রত্যেকেই যদি জগদ্গুরু শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হয়ে তাঁর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ধর্মাশ্রয়ী জীবনযাপন করি, তবে অবশ্যই আমরা সাফল্য, ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি ও শাশ্বত ধর্মনীতি তথা পরমকল্যাণ লাভ করব। আর পাণ্ডবদের মতো সংখ্যায় বা শক্তিতে দুর্বল হলেও ধর্মের শক্তিতে অধর্মের বিরুদ্ধে জয়লাভ করব। তাই গীতার জ্ঞান প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। গীতা হিন্দুদের নিত্যপাঠ্য ও পরমপবিত্র ধর্মগ্রন্থ হলেও সারাবিশ্বের পণ্ডিতগণ গীতাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক গ্রন্থ হিসেবে ¯^ীকার করেছেন। গীতা শুধু হিন্দুদের নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বজনীন ধর্মগ্রন্থ। 

তাই শুধু হিন্দু নয়, শিক্ষিত অহিন্দু ভদ্রলোকদের মাঝেও গীতার জ্ঞান আহরণের আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু সংস্কৃত ভাষায় রচিত গীতার যে বঙ্গানুবাদ সংস্করণগুলো পাওয়া যায় তা অনেকের কাছে দুর্গম পথের মতো। কারণ, সেখানে সাধুভাষা, জটিল বাক্য, সন্ধি ও সমাসবদ্ধ শব্দ এবং তৎসম শব্দের প্রাচুর্যের বাধা রয়েছে যা আধুনিক চলিত ভাষায় শিক্ষিত সমাজের কাছে অনেকটা দুর্বোধ্য। এই বাধা অতিক্রম করে গীতার জ্ঞান আহরণ করা নবীন পাঠকদের কাছে দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই সহজ-সরল চলিত বাংলায় গীতাজ্ঞান প্রচারের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছিলাম। এই প্রয়োজন মেটাতেই গবেষণালব্ধ ‘গীতা সংহিতা’ গ্রন্থখানি দীর্ঘকাল ধরে সযতেœ রচনা করেছি। ‘সংহিতা’ শব্দের অর্থ সংকলন বা চয়নিকা। ‘গীতা সংহিতা’ হলো পবিত্র গীতাগ্রন্থ হতে চয়ন করা মহামূল্যবান কিছু বাণী। এখানে সংস্কৃত শ্লোক নেই, শ্লোকের অনুবাদসমূহের ক্রম মানা হয়নি, সকল শ্লোক গ্রহণ করা হয়নি এবং আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে সমার্থক বা বিশ্লেষণাত্মক অর্থ অবিকৃত ও যথার্থরূপেই গ্রহণ করা হয়েছে। এই গ্রন্থটি মূল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা গ্রন্থের সমতুল্য বা পরিপূরক নয়। এই গ্রন্থ প্রকাশের শুরুতেই আমি বিন¤্রচিত্তে প্রণাম জানাই যশোর রামকৃষ্ণ মিশনের ¯^ামী আত্মবিভানন্দ মহারাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস, ড. দুলাল ভৌমিক, ড. অসীম সরকার, ড. চন্দনা বিশ্বাস ও শ্রীমতী নমিতা মণ্ডল এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রীকুশল বরণ চক্রবর্তী প্রমুখের চরণে। আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃত ভাষা, বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শাস্ত্র বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের আলোকেই আমি গীতা বিষয়ে গবেষণা করার দুঃসাহস করেছি। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালীন ২০১৪ সালে যে গীতাশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিলাম তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রাণপ্রিয় এই সংগঠনটির বিদ্যার্থীবৃন্দের সাথে এরূপ ধর্মপ্রচার কার্যক্রম আমাকে আরও শাণিত করেছে। এছাড়া অনেক সমমনা সেবাব্রতী সংগঠনের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করেছি। সেখানে নিবেদিত বহু মহাপ্রাণের সান্নিধ্য পেয়েছি। আমি সকলের প্রতিই আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. দুলাল ভৌমিক মহোদয়কে। তিনি যতœপূর্বক এই গ্রন্থখানি পরিমার্জন করে ‘শুভশংসনম্’ লিখে দিয়ে কৃতার্থ করেছেন। তবে ¯েœহের ছায়ায় সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা করে আজীবন কৃতার্থ করেছেন মাতৃপ্রতিম শ্রীমতী নমিতা মণ্ডল মহোদয়। তাঁর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মার্গপ্রদর্শন গ্রন্থটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই গ্রন্থ সংকলনে আমি যে মনীষীগণের অনুবাদের সহায়তা নিয়েছি―গীতাশাস্ত্রী শ্রীজগদীশ চন্দ্র ঘোষ, 

শ্রীঅতুল চন্দ্র সেন, শ্রীল প্রভুপাদ, ¯^ামী অমৃতত্বানন্দ ও গায়ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের রাতুল চরণে বিন¤্র প্রণতি জানাই। যাঁদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা এই গ্রন্থ প্রকাশনায় অবদান রেখেছে―অধ্যাপক ড. অসীম সরকার, শ্রীমুকুল কুমার বাড়ৈ, শ্রীমতী নমিতা মণ্ডল, শ্রীপ্রফুল্ল রায়, শ্রীপ্রণব কুমার সাহা, শ্রীবিনয় কৃষ্ণ পোদ্দার, শ্রীতাপস কুমার বল, মো. মনির হোসেন, শ্রীমলয় কুমার সাহা, শ্রীশংকর দত্ত, শ্রীসুদেব ঘোষ, শ্রীরাজন বর্মন, শ্রীসৌরভ রাজবংশী, শ্রীঅনুপ সরকার, শ্রীমতী দীপা বণিক ও শ্রীসুজয় বণিক এবং আমার শুভানুধ্যায়ী ও সমালোচকবৃন্দ―এঁদের সবাইকে বিন¤্র কৃতজ্ঞতা ও নিরন্তর শুভ কামনা জ্ঞাপন করছি। আমার যথেষ্ট প্রচেষ্টার পরও গ্রন্থটির প্রথম প্রকাশে ভুল-ত্রæটি থাকা সম্ভব। আশা করি আপনাদের পরামর্শে দ্বিতীয় সংস্করণ আরও পরিপাটি ও সর্বাঙ্গীণ সুন্দর হবে। গ্রন্থটি গীতার অমৃতময় জ্ঞান পিপাসু পাঠকদের কিঞ্চিৎ তৃষ্ণা মেটাতে পারলে আমার সকল পরিশ্রম সার্থক হবে। ‘গীতা সংহিতা’ গ্রন্থখানি প্রত্যেকের জীবনে নিত্যসঙ্গী হোক, গীতার আলোয় সবার জীবন আলোকিত হোক― পরমেশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা করি। Ñ মাণিক রক্ষিত