॥ ॐ श्री परमात्मने नमः ॥
॥ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ॥
अथ द्वितीयोऽध्यायः। साङ्ख्ययोगः।
অথ দ্বিতীয় অধ্যায়
সাংখ্যযোগ
सञ्जय उवाच
तं तथा कृपयाविष्टमश्रुपूर्णाकुलेक्षणम्।
विषीदन्तमिदं वाक्यमुवाच मधुसूदनः॥२-१॥
সঞ্জয় উবাচ
তং তথা কৃপয়াবিষ্টমশ্রুপূর্ণাকুলেক্ষণম্।
বিষীদন্তমিদং বাক্যমুবাচ মধুসূদনঃ॥ ২-১
সঞ্জয় বললেন– পূর্বোক্ত প্রকারে করুণায় আবিষ্ট, বিষণ্ন ও অশ্রুসিক্ত ব্যাকুল অর্জুনকে তখন শ্রীকৃষ্ণ এই কথা বললেন-। ২/১
श्रीभगवानुवाच
कुतस्त्वा कश्मलमिदं विषमे समुपस्थितम्।
अनार्यजुष्टमस्वर्ग्यमकीर्तिकरमर्जुन॥२-२॥
শ্রীভগবানুবাচ
কুতস্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্।
অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যম্ অকীর্তিকরমর্জুন॥ ২-২
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন–হে অর্জুন! এই সঙ্কট সময়ে অনার্যের ন্যায় এই মোহ (কর্তব্য-কর্মে বিমুখতা) তোমার মধ্যে কোথা হতে এলো? এই মোহ কোন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির শোভা পায় না। এটা স্বর্গের পথে বাধা স্বরূপ। এটা তোমাকে কীর্তি বা খ্যাতি প্রদান করবে না। ২/২
क्लैब्यं मा स्म गमः पार्थ नैतत्त्वय्युपपद्यते।
क्षुद्रं हृदयदौर्बल्यं त्यक्त्वोत्तिष्ठ परन्तप॥२-३॥
ক্লৈব্যং মা স্ম গমঃ পার্থ নৈতৎ ত্বয্যুপপদ্যতে।
ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যক্ত্বোত্তিষ্ঠ পরন্তপ॥ ২-৩
হে পার্থ! ক্লীবভাব প্রাপ্ত হইও না। এরূপ পৌরুষহীনতা তোমাতে শোভা পায় না। হে শত্রুবিজয়ী বীর! হৃদয়ের এই তুচ্ছ দুর্বলতা পরিত্যাগ করে যুদ্ধের জন্য ওঠো, জাগো। ২/৩
अर्जुन उवाच
कथं भीष्ममहं सङ्ख्ये द्रोणं च मधुसूदन।
इषुभिः प्रतियोत्स्यामि पूजार्हावरिसूदन॥२-४॥
অর্জুন উবাচ
কথং ভীষ্মমহং সংখ্যে দ্রোণঞ্চ মধুসূদন।
ইষুভিঃ প্রতিযোৎস্যামি পূজার্হাবরিসূদন॥ ২-৪
অর্জুন বলেলেন, হে মধুসূদন! আমি কীভাবে পিতামহ ভীষ্ম এবং আচার্য দ্রোণের বিরুদ্ধে বাণের দ্বারা যুদ্ধ করব? কারণ, হে শত্রুদমনকারী কৃষ্ণ! এঁরা দুজনেই আমার পূজনীয়। ২/৪
गुरूनहत्वा हि महानुभावान्
श्रेयो भोक्तुं भैक्ष्यमपीह लोके।
हत्वार्थकामांस्तु गुरूनिहैव
भुञ्जीय भोगान् रुधिरप्रदिग्धान्॥२-५॥
গুরূনহত্বা হি মহানুভাবান্
শ্রেয়ো ভোক্তুং ভৈক্ষ্যমপীহ লোকে।
হত্বার্থকামাংস্তু গুরূনিহৈব
ভুঞ্জীয় ভোগান্ রুধিরপ্রদিগ্ধান্॥ ২-৫
তাই এই মহানুভব গুরুজনদের হত্যা না করে আমি পৃথিবীতে ভিক্ষা করে উদরপূরণ করাও কল্যাণকর মনে করি। কারণ, গুরুজনদের বধ করে তাদের রক্তে ভেজা ধনসম্পদ ও রাজ্যই তো ভোগ করতে হবে।২/৫
न चैतद्विद्मः कतरन्नो गरीयो
यद्वा जयेम यदि वा नो जयेयुः।
यानेव हत्वा न जिजीविषामस्-
तेऽवस्थिताः प्रमुखे धार्तराष्ट्राः॥२-६॥
ন চৈতদ্বিদ্মঃ কতরন্নো গরীয়ো
যদ্বা জয়েম যদি বা নো জয়েয়ুঃ।
যানেব হত্বা ন জিজীবিষামঃ
তেঽবস্থিতাঃ প্রমুখে ধার্তরাষ্ট্রাঃ॥২-৬
যুদ্ধ করা বা না করা – এর মধ্যে কোনটি আমাদের পক্ষে শ্রেয়; আর আমরা জয়ী হব, না ওঁরা আমাদের জয় করবেন তাও আমরা জানি না। যাঁদের বধ করে আমরা বাঁচতেও চাই না, আমাদের আত্মীয় সেই ধৃতরাষ্ট্র-পুত্রগণই আমাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। ২/৬
कार्पण्यदोषोपहतस्वभावः
पृच्छामि त्वां धर्मसम्मूढचेताः।
यच्छ्रेयः स्यान्निश्चितं ब्रूहि तन्मे
शिष्यस्तेऽहं शाधि मां त्वां प्रपन्नम्॥२-७॥
কার্পণ্যদোষোপহতস্বভাবঃ
পৃচ্ছামি ত্বাং ধর্মসংমূঢ়চেতাঃ।
যচ্ছ্রেয়ঃ স্যান্নিশ্চিতং ব্রূহি তন্মে
শিষ্যস্তেঽহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্।। ২-৭
এইজন্য কাপুরুষতা দোষে অভিভূত স্বভাব এবং ধর্মবিষয়ে বিমূঢ়চিত্ত আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি যে, আমার পক্ষে যা নিশ্চিত কল্যাণকর, তা আমাকে বলুন। কারণ, আমি আপনার শিষ্য, আপনার শরণাগত, আমাকে শিক্ষা দিন। ২/৭
न हि प्रपश्यामि ममापनुद्याद्
यच्छोकमुच्छोषणमिन्द्रियाणाम्।
अवाप्य भूमावसपत्नमृद्धं
राज्यं सुराणामपि चाधिपत्यम्॥२-८॥
ন হি প্রপশ্যামি মমাপনুদ্যাৎ
যচ্ছোকমুচ্ছোষণমিন্দ্রিয়াণাম্।
অবাপ্য ভূমাবসপত্নমৃদ্ধং
রাজ্যং সুরাণামপি চাধিপত্যম্॥ ২-৮
কারণ পৃথিবীতে ধন-ধান্যসমৃদ্ধ শত্রুশূন্য রাজ্য এবং স্বর্গে দেবতাগণের প্রভুত্ব লাভ করলেও আমি সেই উপায় দেখছি না যা আমার ইন্দ্রিয়সমূহের সন্তাপক শোক দূর করতে পারে। ২/৮
सञ्जय उवाच
एवमुक्त्वा हृषीकेशं गुडाकेशः परन्तप।
न योत्स्य इति गोविन्दमुक्त्वा तूष्णीं बभूव ह॥२-९॥
সঞ্জয় উবাচ
এবমুক্ত্বা হৃষীকেশং গুড়াকেশঃ পরন্তপ।
ন যোৎস্য ইতি গোবিন্দম্ উক্ত্বা তূষ্ণীং বভূব হ॥ ২-৯
সঞ্জয় বললেন- হে শত্রুতাপন ধৃতরাষ্ট্র! নিদ্রাজয়ী অর্জুন অন্তর্যামী শ্রীকৃষ্ণকে স্পষ্ট করে বললেন “হে গোবিন্দ! আমি যুদ্ধ করব না।” এই কথা বলে তিনি নীরব হলেন। ২/৯
तमुवाच हृषीकेशः प्रहसन्निव भारत।
सेनयोरुभयोर्मध्ये विषीदन्तमिदं वचः॥२-१०॥
তমুবাচ হৃষীকেশঃ প্রহসন্নিব ভারত।
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে বিষীদন্তমিদং বচঃ॥ ২-১০
হে ভরতবংশীয় ধৃতরাষ্ট্র! অন্তর্যামী শ্রীকৃষ্ণ উভয় সেনাবাহিনীর মধ্যে শোকমগ্ন অর্জুনকে যেন হাসতে হাসতে এই কথা বললেন-। ২/১০
श्रीभगवानुवाच
अशोच्यानन्वशोचस्त्वं प्रज्ञावादांश्च भाषसे।
गतासूनगतासूंश्च नानुशोचन्ति पण्डिताः॥२-११॥
শ্রীভগবান্ উবাচ
অশোচ্যানন্বশোচস্ত্বং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে।
গতাসূনগতাসূংশ্চ নানুশোচন্তি পণ্ডিতাঃ॥ ২-১১
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে অর্জুন! যাদের জন্য শোক করা উচিত নয় তাদের জন্য তুমি শোক করছো, আবার পণ্ডিতের মতো কথাও বলছো। কিন্তু পণ্ডিতগণ মৃত বা জীবিত কারও জন্যই শোক করেন না। ২/১১
न त्वेवाहं जातु नासं न त्वं नेमे जनाधिपाः।
न चैव न भविष्यामः सर्वे वयमतः परम्॥२-१२॥
ন ত্বেবাহং জাতু নাসং ন ত্বং নেমে জনাধিপাঃ।
ন চৈব ন ভবিষ্যামঃ সর্বে বয়মতঃ পরম্॥ ২-১২
এমন নয় যে, আমি আগে ছিলাম না বা তুমি ছিলে না বা এই রাজাগণ ছিল না এবং পরেও যে আমরা সকলে থাকব না, তাও নয়। ২/১২
देहिनोऽस्मिन्यथा देहे कौमारं यौवनं जरा।
तथा देहान्तरप्राप्तिर्धीरस्तत्र न मुह्यति॥२-१३॥
দেহিনোঽস্মিন্ যথা দেহে কৌমারং যৌবনং জরা।
তথা দেহান্তরপ্রাপ্তিঃ ধীরস্তত্র ন মুহ্যতি॥ ২-১৩
প্রত্যেক দেহধারীর এই দেহে কৌমার, যৌবন ও বার্ধক্য আসে; তেমনি দেহান্তর-প্রাপ্তিও ঘটে। ধীর ব্যক্তিগণ তাতে মোহগ্রস্ত হন না। ২/১৩
मात्रास्पर्शास्तु कौन्तेय शीतोष्णसुखदुःखदाः।
आगमापायिनोऽनित्यास्तांस्तितिक्षस्व भारत॥२-१४॥
মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ।
আগমাপায়িনোঽনিত্যাঃ তাংস্তিতিক্ষস্ব ভারত॥ ২-১৪
হে কুন্তিপুত্র! শীত-গ্রীষ্ম এবং সুখ-দুঃখ প্রদানকারী ইন্দ্রিয় এবং বিষয়ের সংযোগ তো উৎপত্তি ও বিনাশশীল। অতএব এসব অনিত্য। সুতরাং হে অর্জুন! তুমি এই সকল সহ্য করো। ২/১৪
यं हि न व्यथयन्त्येते पुरुषं पुरुषर्षभ।
समदुःखसुखं धीरं सोऽमृतत्वाय कल्पते॥२-१५॥
যং হি ন ব্যথিয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ।
সমদুঃখসুখং ধীরং সোঽমৃতত্বায় কল্পতে॥ ২-১৫
কারণ হে পুরুষশ্রেষ্ঠ! সুখ-দুঃখে সমভাববিশিষ্ট যে ধীর ব্যক্তিকে ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের এই সংযোগ বিচলিত করতে পারে না, তিনি মোক্ষলাভের অধিকারী হন। ২/১৫
नासतो विद्यते भावो नाभावो विद्यते सतः।
उभयोरपि दृष्टोऽन्तस्त्वनयोस्तत्त्वदर्शिभिः॥२-१६॥
নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃ।
উভয়োরপি দৃষ্টোঽন্তঃ ত্বনয়োস্তত্ত্বদর্শিভিঃ॥ ২-১৬
অনিত্য জড় বস্তু (অসৎ)-এর স্থায়িত্ব নেই এবং নিত্যবস্তু আত্মা (সৎ)-এর কখনো বিনাশ নেই। তত্ত্বদর্শিগণ এই সৎ-অসৎ উভয়েরই স্বরূপ উপলব্ধি করেছেন। ২/১৬
अविनाशि तु तद्विद्धि येन सर्वमिदं ततम्।
विनाशमव्ययस्यास्य न कश्चित्कर्तुमर्हति॥२-१७॥
অবিনাশি তু তদ্বিদ্ধি যেন সর্বমিদং ততম্।
বিনাশমব্যয়স্যাস্য ন কশ্চিৎ কর্তুমর্হতি॥ ২-১৭
তাঁকেই অবিনাশী জানবে যাঁর দ্বারা এই সমগ্র জগৎ পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। এই অবিনাশীর বিনাশ করতে কেউই সক্ষম নয়। ২/১৭
अन्तवन्त इमे देहा नित्यस्योक्ताः शरीरिणः।
अनाशिनोऽप्रमेयस्य तस्माद्युध्यस्व भारत॥२-१८॥
অন্তবন্ত ইমে দেহা নিত্যস্যোক্তাঃ শরীরিণঃ।
অনাশিনোঽপ্রমেয়স্য তস্মাদ্যুধ্যস্ব ভারত॥ ২-১৮
অবিনশ্বর, অপরিমেয়, নিত্য-স্বরূপ জীবাত্মার এই সকল শরীরকে বিনাশশীল বলা হয়েছে। তাই হে ভরতবংশীয় অর্জুন! তুমি যুদ্ধ করো। ২/১৮
य एनं वेत्ति हन्तारं यश्चैनं मन्यते हतम्।
उभौ तौ न विजानीतो नायं हन्ति न हन्यते॥२-१९॥
য এনং বেত্তি হন্তারং যশ্চৈনং মন্যতে হতম্।
উভৌ তৌ ন বিজানীতো নায়ং হন্তি ন হন্যতে॥ ২-১৯
যিনি এই আত্মাকে হত্যাকারী মনে করেন অথবা যিনি একে নিহত বলে মনে করেন তাঁরা উভয়েই আত্মার প্রকৃত স্বরূপ জানেন না। কারণ, এই আত্মা প্রকৃতপক্ষে কাউকে হত্যা করে না এবং কারো দ্বারা হতও হয় না। ২/১৯
न जायते म्रियते वा कदाचिन्
नायं भूत्वा भविता वा न भूयः।
अजो नित्यः शाश्वतोऽयं पुराणो
न हन्यते हन्यमाने शरीरे॥२-२०॥
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিৎ
নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোঽয়ং পুরাণো
ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে॥ ২-২০
এই আত্মা কখনও জন্মায় না বা মরেও না এবং আত্মার অস্তিত্ব উৎপত্তিসাপেক্ষ নয়। কারণ, আত্মা জন্মহীন, নিত্য, সনাতন এবং পুরাতন। শরীর বিনষ্ট হলেও আত্মা বিনষ্ট হয় না। ২/২০
वेदाविनाशिनं नित्यं य एनमजमव्ययम्।
कथं स पुरुषः पार्थ कं घातयति हन्ति कम्॥२-२१॥
বেদাবিনাশিনং নিত্যং য এনমজমব্যয়ম্।
কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তি হন্তি কম্॥ ২-২১
হে পার্থ! যিনি এই আত্মাকে অবিনাশী, নিত্য, জন্মরহিত এবং অব্যয় বলে জানেন, তিনি কীভাবে কাউকে হত্যা করবেন বা করাবেন? ২/২১
वासांसि जीर्णानि यथा विहाय
नवानि गृह्णाति नरोऽपराणि।
तथा शरीराणि विहाय जीर्णा-
न्यन्यानि संयाति नवानि देही॥२-२२॥
বাসংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহ্ণাতি নরোঽপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা-
ন্যন্যানি সংয্যাতি নবানি দেহী॥ ২-২২
যেমন মানুষ জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে অন্য নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে, তেমনই জীবাত্মা পুরাতন শরীরকে ত্যাগ করে অন্য নতুন শরীর গ্রহণ করে। ২/২২
नैनं छिन्दन्ति शस्त्राणि नैनं दहति पावकः।
न चैनं क्लेदयन्त्यापो न शोषयति मारुतः॥२-२३॥
নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ।
ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো শোষয়তি মারুতঃ॥ ২৩
শস্ত্র এই আত্মাকে কাটতে পারে না, অগ্নি দগ্ধ করতে পারে না, জল সিক্ত করতে পারে না এবং বায়ু একে শুষ্ক করতে পারে না। ২/২৩
अच्छेद्योऽयमदाह्योऽयमक्लेद्योऽशोष्य एव च ।
नित्यः सर्वगतः स्थाणुरचलोऽयं सनातनः॥२-२४॥
অচ্ছেদ্যোঽয়মদাহ্যাঽয়ম্ অক্লেদ্যোঽশোষ্য এব চ।
নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুঃ অচলোঽয়ং সনাতনঃ॥ ২-২৪
কারণ এই আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য ও অশোষ্য এবং নিত্য, সর্বব্যাপী, অচল, স্থির ও সনাতন। ২/২৪
अव्यक्तोऽयमचिन्त्योऽयमविकार्योऽयमुच्यते।
तस्मादेवं विदित्वैनं नानुशोचितुमर्हसि॥२-२५॥
অব্যক্তোঽয়মচিন্ত্যোঽয়ম্ অবিকার্যোঽয়মুচ্যতে।
তস্মাদেবং বিদিত্বৈনং নানুশোচিতুমর্হসি॥ ২-২৫
এই আত্মাকে অব্যক্ত, চিন্তার অতীত এবং বিকারহীন বলা হয়। তাই হে অর্জুন! এই আত্মাকে উক্তপ্রকার জেনে তোমার শোক করা উচিত নয়। ২/২৫
अथ चैनं नित्यजातं नित्यं वा मन्यसे मृतम्।
तथापि त्वं महाबाहो नैवं शोचितुमर्हसि॥२-२६॥
অথ চৈনং নিত্যজাতং নিত্যং বা মন্যসে মৃতম্।
তথাপি ত্বং মহাবাহো নৈনং শোচিতুমর্হসি॥ ২-২৬
আর যদি তুমি এই আত্মাকে নিত্য জন্মশীল ও নিত্য মরণশীল বলে মনে করো, তবুও হে মহাবাহো! তোমার শোক করা উচিত নয়। ২/২৬
जातस्य हि ध्रुवो मृत्युर्ध्रुवं जन्म मृतस्य च।
तस्मादपरिहार्येऽर्थे न त्वं शोचितुमर्हसि॥२-२७॥
জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুঃ ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ।
তস্মাদপরিহার্যেঽর্থে ন ত্বং শোচিতুমর্হসি॥ ২-২৭
কারণ এইরূপ মনে করলেও - যে জন্মায় তার মৃত্যু নিশ্চিত এবং মৃতের জন্মও নিশ্চিত। সুতরাং এই অপরিহার্য বিষয়ে তোমার শোক করা উচিত নয়। ২/২৭
अव्यक्तादीनि भूतानि व्यक्तमध्यानि भारत।
अव्यक्तनिधनान्येव तत्र का परिदेवना॥२-२८॥
অব্যক্তাদীনি ভূতানি ব্যক্তমধ্যানি ভারত।
অব্যক্তনিধনান্যেব তত্র কা পরিদেবনা॥ ২-২৮
হে অর্জুন! সমস্ত প্রাণী জন্মের পূর্বে অপ্রকট ছিল, মৃত্যুর পরও অপ্রকট হয়ে যায়, কেবল মধ্যবর্তী সময়েই প্রকটিত থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিলাপ কিসের? ২/২৮
आश्चर्यवत्पश्यति कश्चिदेन-
माश्चर्यवद्वदति तथैव चान्यः।
आश्चर्यवच्चैनमन्यः शृणोति
श्रुत्वाप्येनं वेद न चैव कश्चित्॥२-२९॥
আশ্চর্যবৎ পশ্যতি কশ্চিদেনম্
আশ্চর্যবদ্বদতি তথৈব চান্যঃ।
আশ্চর্যবচ্চৈনমন্যঃ শৃণোতি
শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ॥ ২-২৯
কেউ এই আত্মাকে আশ্চর্যবৎ দেখেন, অন্য কেউ একে আশ্চর্যবৎ বর্ণনা করেন এবং অপর কেউ এই আত্মাকে আশ্চর্যান্বিত হয়ে শ্রবণ করেন। আর কেউ কেউ তো শুনেও এর সম্বন্ধে জানে না। কারণ, আত্মা দুর্বিজ্ঞেয় অর্থাৎ একে জানা অত্যন্ত কঠিন। ২/২৯
देही नित्यमवध्योऽयं देहे सर्वस्य भारत।
तस्मात्सर्वाणि भूतानि न त्वं शोचितुमर्हसि॥२-३०॥
দেহী নিত্যমবধ্যোঽয়ং দেহে সর্বস্য ভারত।
তস্মাৎসর্বাণি ভূতানি ন ত্বং শোচিতুমর্হসি॥ ২-৩০
হে অর্জুন! এই আত্মা সকলের দেহে সর্বদাই অবধ্য। এই কারণে কোনো প্রাণীর জন্য তোমার শোক করা উচিত নয়। ২/৩০
स्वधर्ममपि चावेक्ष्य न विकम्पितुमर्हसि।
धर्म्याद्धि युद्धाच्छ्रेयोऽन्यत्क्षत्रियस्य न विद्यते॥२-३१॥
স্বধর্মমপি চাবেক্ষ্য ন বিকম্পিতুমর্হসি।
ধর্ম্যাদ্ধি যুদ্ধাচ্ছ্রেয়োঽন্যৎ ক্ষত্রিয়স্য ন বিদ্যতে॥ ২-৩১
এবং নিজ ধর্মের দিকে দৃষ্টি রেখেও তোমার ভীত হওয়া উচিত নয়। কারণ, ক্ষত্রিয়ের পক্ষে ধর্মযুদ্ধ অপেক্ষা বড় আর কোন কল্যাণকর কর্তব্য নেই। ২/৩১
यदृच्छया चोपपन्नं स्वर्गद्वारमपावृतम्।
सुखिनः क्षत्रियाः पार्थ लभन्ते युद्धमीदृशम्॥२-३२॥
যদৃচ্ছয়া চোপপন্নং স্বর্গদ্বারমপাবৃতম্।
সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম্॥ ২-৩২
হে পার্থ! স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাপ্ত, উন্মুক্ত স্বর্গদ্বার সদৃশ এই প্রকার ধর্মযুদ্ধ ভাগ্যবান ক্ষত্রিয়গণই প্রাপ্ত হন। ২/৩২
अथ चेत्त्वमिमं धर्म्यं सङ्ग्रामं न करिष्यसि।
ततः स्वधर्मं कीर्तिं च हित्वा पापमवाप्स्यसि॥२-३३॥
অথ চেৎ ত্বমিমং ধর্ম্যং সংগ্রামং ন করিষ্যসি।
ততঃ স্বধর্মং কীর্তিং চ হিত্বা পাপমবাপ্স্যসি॥ ২-৩৩
কিন্তু তুমি যদি এই ধর্মযুদ্ধ না করো তাহলে স্বধর্ম ও কীর্তি হতে বিচ্যুত হয়ে পাপভাগী হবে। ২/৩৩
अकीर्तिं चापि भूतानि कथयिष्यन्ति तेऽव्ययाम्।
सम्भावितस्य चाकीर्तिर्मरणादतिरिच्यते॥२-३४
অকীর্তিঞ্চাপি ভূতানি কথয়িষ্যন্তি তেঽব্যয়াম্।
সম্ভাবিতস্য চাকীর্তির্মরণাদতিরিচ্যতে॥ ২-৩৪
এবং সকলেই তোমার এই দীর্ঘকালস্থায়ী অকীর্তি (অখ্যাতি) নিয়ে আলোচনা করবে। মাননীয় ব্যক্তির পক্ষে এই অকীর্তি মৃত্যু অপেক্ষাও বেশি যন্ত্রণাদায়ক। ২/৩৪
भयाद्रणादुपरतं मंस्यन्ते त्वां महारथाः।
येषां च त्वं बहुमतो भूत्वा यास्यसि लाघवम्॥२-३५॥
ভয়াদ্রণাদুপরতং মংস্যন্তে ত্বাং মহারথাঃ।
যেষাঞ্চ ত্বং বহুমতো ভূত্বা যাস্যসি লাঘবম্॥ ২-৩৫
আর যাঁদের দৃষ্টিতে তুমি খুবই সম্মানিত ছিলে তাঁদের চোখে হেয় হয়ে যাবে। এই মহারথিগণ মনে করবেন তুমি ভয়বশতঃ যুদ্ধে বিরত হয়েছ। ২/৩৫
अवाच्यवादांश्च बहून्वदिष्यन्ति तवाहिताः।
निन्दन्तस्तव सामर्थ्यं ततो दुःखतरं नु किम्॥२-३६॥
অবাচ্যবাদাংশ্চ বহূন্ বদিষ্যন্তি তবাহিতাঃ।
নিন্দন্তস্তব সামর্থ্যং ততো দুঃখতরং নু কিম্॥ ২-৩৬
তোমার শত্রুরা তোমার সামর্থ্যের নিন্দা করে অনেক অকথ্য কথাও বলবে। এর থেকে বেশি দুঃখজনক আর কী হতে পারে? ২/৩৬
हतो वा प्राप्स्यसि स्वर्गं जित्वा वा भोक्ष्यसे महीम्।
तस्मादुत्तिष्ठ कौन्तेय युद्धाय कृतनिश्चयः॥२-३७॥
হতো বা প্রাপ্স্যসি স্বর্গং জিত্বা বা ভোক্ষ্যসে মহীম্।
তস্মাদুত্তিষ্ঠ কৌন্তেয় যুদ্ধায় কৃতনিশ্চয়ঃ॥ ২-৩৭
যদি তুমি যুদ্ধে নিহত হও, তা হলে স্বর্গ লাভ করবে। আর যদি জয়লাভ করো তবে পৃথিবীর রাজত্ব ভোগ করবে। তাই হে অর্জুন! তুমি যুদ্ধের জন্য দৃঢ়-নিশ্চয় হয়ে উত্থিত হও। ২/৩৭
सुखदुःखे समे कृत्वा लाभालाभौ जयाजयौ।
ततो युद्धाय युज्यस्व नैवं पापमवाप्स्यसि॥२-३८॥
সুখদুঃখে সমে কৃত্বা লাভালাভৌ জয়াজয়ৌ।
ততো যুদ্ধায় যুজ্যস্ব নৈবং পাপমবাপ্স্যসি॥ ২-৩৮
জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতি, সুখ-দুঃখকে সমান মনে করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। এইভাবে যুদ্ধ করলে তুমি পাপগ্রস্ত হবে না। ২/৩৮
एषा तेऽभिहिता साङ्ख्ये बुद्धिर्योगे त्विमां शृणु।
बुद्ध्या युक्तो यया पार्थ कर्मबन्धं प्रहास्यसि॥२-३९॥
এষা তেঽভিহিতা সাংখ্যে বুদ্ধির্যোগে ত্বিমাং শৃণু।
বুদ্ধ্যা যুক্তো যয়া পার্থ কর্মবন্ধং প্রহাস্যসি॥ ২-৩৯
হে পার্থ! তোমার জন্য এই তত্ত্ব-জ্ঞানযোগের বিষয়ে বলা হল। এখন তুমি কর্মযোগের কথা শোন। এই বুদ্ধি দ্বারা যুক্ত হলে তুমি অনায়াসে কর্মবন্ধন হতে মুক্ত হবে। ২/৩৯
नेहाभिक्रमनाशोऽस्ति प्रत्यवायो न विद्यते।
स्वल्पमप्यस्य धर्मस्य त्रायते महतो भयात्॥२-४०॥
নেহাভিক্রমনাশোঽস্তি প্রত্যবায়ো ন বিদ্যতে।
স্বল্পমপস্য ধর্মস্য ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ॥ ২-৪০
নিষ্কাম কর্মযোগে কর্ম আরম্ভ করলে তা বিফল হয় না এবং ভুল-ত্রুটিজনিত প্রত্যবায় দোষও হয় না। উপরন্তু এই নিষ্কাম কর্মযোগ-রূপ ধর্মের স্বল্প অনুষ্ঠানও জন্ম-মৃত্যুরূপ মহাভয় হতে রক্ষা করে। ২/৪০
व्यवसायात्मिका बुद्धिरेकेह कुरुनन्दन।
बहुशाखा ह्यनन्ताश्च बुद्धयोऽव्यवसायिनाम्॥२-४१॥
ব্যবসায়াত্মিকা বূদ্ধিরেকেহ কুরুনন্দন।
বহুশাখা হ্যনন্তাশ্চ বুদ্ধয়োঽব্যবসায়িনাম্॥ ২-৪১
হে কুরুনন্দন! এই নিষ্কাম কর্মযোগে আত্মজ্ঞানমূলক শুদ্ধ বুদ্ধি একনিষ্ঠ হয়। কিন্তু অস্থির-চিত্ত সকাম ব্যক্তিদের বুদ্ধি বহু শাখাবিশিষ্ট ও বহুমুখী হয়ে থাকে। ২/৪১
यामिमां पुष्पितां वाचं प्रवदन्त्यविपश्चितः।
वेदवादरताः पार्थ नान्यदस्तीति वादिनः॥२-४२॥
कामात्मानः स्वर्गपरा जन्मकर्मफलप्रदाम्।
क्रियाविशेषबहुलां भोगैश्वर्यगतिं प्रति॥२-४३॥
भोगैश्वर्यप्रसक्तानां तयापहृतचेतसाम् ।
व्यवसायात्मिका बुद्धिः समाधौ न विधीयते॥२-४४॥
যামিমাং পুষ্পিতাং বাচং প্রবদন্ত্যবিপশ্চিতঃ।
বেদবাদরতাঃ পার্থ নান্যদস্তীতি বাদিনঃ॥ ২-৪২
কামাত্মানঃ স্বর্গপরা জন্মকর্মফলপ্রদাম্।
ক্রিয়াবিশেষবহুলাং ভোগৈশ্বর্যগতিং প্রতি॥ ২-৪৩
ভোগৈশ্বর্যপ্রসক্তানাং তয়াপহৃতচেতসাম্।
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিঃ সমাধৌ ন বিধীয়তে॥ ২-৪৪
হে পার্থ! অবিবেকিগণের চিত্ত ভোগে আসক্ত হয়ে থাকে। মোক্ষপ্রদায়ী বেদবাক্য উপেক্ষা করে কর্মফল-প্রশংসাকারী বাক্যেই তাদের চিত্ত আকৃষ্ট। তাদের বুদ্ধিতে স্বর্গই পরমপ্রাপ্য বস্তু এবং তারা বলে থাকেন যে, স্বর্গ হতে বড় আর কিছুই নেই। তারা যে পুষ্পিত অর্থাৎ আপাত-মনোহর বাক্য বলেন তা জন্মরূপ কর্মফল প্রদান করে। ভোগ আর ঐশর্য প্রাপ্তির জন্য নানা ক্রিয়ার বর্ণনাকারী সেইসকল বাক্য দ্বারা তাদের চিত্ত অপহৃত হয় এবং ভোগ ও ঐশ্বর্যের প্রতি আসক্ত হয় তারা। তাদের পরমাত্মাতে নিশ্চয়াত্মিকা শুদ্ধ-বুদ্ধি হতে পারে না। ২/৪২-৪৪
त्रैगुण्यविषया वेदा निस्त्रैगुण्यो भवार्जुन।
निर्द्वन्द्वो नित्यसत्त्वस्थो निर्योगक्षेम आत्मवान्॥२-४५॥
ত্রৈগুণ্যবিষয়া বেদা নিস্ত্রৈগুণ্যো ভবার্জুন।
নির্দ্বন্দ্বো নিত্যসত্ত্বস্থো নির্যোগক্ষেম আত্মবান্॥ ২-৪৫
হে অর্জুন! বেদের কর্মকাণ্ড পূর্বোক্ত ভাবে ত্রিগুণের কার্যরূপ সমস্ত ভোগ এবং তারই সাধনের প্রতিপাদক। সুতরাং তুমি ঐসব ভোগ এবং তার সাধনে আসক্তি-বর্জিত হও। সুখ-দুঃখ ইত্যাদি দ্বন্দ্ব হতে মুক্ত এবং নিত্যবস্তু পরমাত্মাতে স্থিত হও। যোগ-ক্ষেমের আকাঙ্ক্ষাহীন তথা আত্মপরায়ণ হও। ২/৪৫
यावानर्थ उदपाने सर्वतः सम्प्लुतोदके।
तावान्सर्वेषु वेदेषु ब्राह्मणस्य विजानतः॥२-४६॥
যাবানর্থ উদপানে সর্বতঃ সংপ্লুতোদকে।
তাবান্ সর্বেষু বেদেষু ব্রাহ্মণস্য বিজানতঃ॥ ২-৪৬
সর্বত্র পরিপূর্ণ জলাশয়প্রাপ্ত হলে ক্ষুদ্র জলাশয়ে মানুষের যেটুকু প্রয়োজন থাকে, ব্রহ্মতত্ত্বজ্ঞানী ব্রাহ্মণের বেদে ততটাই প্রয়োজন থাকে। ২/৪৬
कर्मण्येवाधिकारस्ते मा फलेषु कदाचन।
मा कर्मफलहेतुर्भूर्मा ते सङ्गोऽस्त्वकर्मणि॥२-४७॥
কর্মণ্যেবাধিকাতরস্তে মা ফলেষু কদাচন।
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোঽস্ত্বকর্মণি॥ ২-৪৭
কর্মেই তোমার অধিকার, ফলে নয়। অতএব তুমি কর্ম-ফলের কারণ হয়ো না। আবার কর্মত্যাগেও যেন তোমার প্রবৃত্তি না হয়। ২/৪৭
योगस्थः कुरु कर्माणि सङ्गं त्यक्त्वा धनञ्जय।
सिद्ध्यसिद्ध्योः समो भूत्वा समत्वं योग उच्यते॥२-४८॥
যোগস্থঃ কুরু কর্মাণি সঙ্গং ত্যক্ত্বা ধনঞ্জয়।
সিদ্ধ্যসিদ্ধোঃ সমো ভূত্বা সমত্বং যোগ উচ্যতে॥ ২-৪৮
হে ধনঞ্জয়! তুমি আসক্তি ত্যাগ করে এবং সিদ্ধি-অসিদ্ধিতে সমভাবাপন্ন থেকে যোগস্থ হয়ে সকল কর্ম করো। এই সমত্ব-কেই যোগ বলা হয়। ২/৪৮
दूरेण ह्यवरं कर्म बुद्धियोगाद्धनञ्जय।
बुद्धौ शरणमन्विच्छ कृपणाः फलहेतवः॥२-४९॥
দূরেণ হ্যবরং কর্ম বুদ্ধিযোগাদ্ধনঞ্জয়।
বুদ্ধৌ শরণমন্বিচ্ছ কৃপণাঃ ফলহেতবঃ॥ ২-৪৯
এই সমত্ব-রূপ বুদ্ধিযোগ অপেক্ষা সকাম-কর্ম নিতান্তই নিকৃষ্ট। তাই, হে ধনঞ্জয়! তুমি সমত্ববুদ্ধিরূপ নিষ্কাম কর্মযোগের আশ্রয় নাও। কারণ, যারা ফলের হেতু হয় অর্থাৎ ফলের আকাঙ্ক্ষাবশতঃ কর্ম করে, তারা অত্যন্ত দীন। ২/৪৯
बुद्धियुक्तो जहातीह उभे सुकृतदुष्कृते।
तस्माद्योगाय युज्यस्व योगः कर्मसु कौशलम्॥२-५०॥
বুদ্ধিযুক্তো জহাতীহ উভে সুকৃতদুষ্কৃতে।
তস্মাদ্ যোগায় যুজ্যস্ব যোগঃ কর্মসু কৌশলম্॥ ২-৫০
সমত্ব-বুদ্ধিযুক্ত পুরুষ ইহলোকেই পাপ এবং পুণ্য দুই-ই পরিত্যাগ করেন অর্থাৎ এগুলি হতে মুক্তিলাভ করেন। তাই তুমি সমত্বরূপ কর্মযোগের আশ্রয় নাও। এই সমত্বরূপ যোগই হল কর্মের কৌশল অর্থাৎ কর্ম-বন্ধন হতে মুক্ত হবার উপায়। ২/৫০
कर्मजं बुद्धियुक्ता हि फलं त्यक्त्वा मनीषिणः।
जन्मबन्धविनिर्मुक्ताः पदं गच्छन्त्यनामयम्॥२-५१॥
কর্মজং বুদ্ধিযুক্তা হি ফলং ত্যক্ত্বা মনীষিণঃ।
জন্মবন্ধবিনির্মুক্তাঃ পদং গচ্ছন্ত্যনাময়ম্॥ ২-৫১
কারণ সমত্ব-বুদ্ধিসম্পন্ন জ্ঞানিগণ কর্মজনিত ফল ত্যাগ করে জন্ম-রূপ বন্ধন হতে মুক্ত হয়ে নির্বিকার পরমপদ লাভ করেন। ২/৫১
यदा ते मोहकलिलं बुद्धिर्व्यतितरिष्यति।
तदा गन्तासि निर्वेदं श्रोतव्यस्य श्रुतस्य च॥२-५२॥
যদা তে মোহকলিলং বুদ্ধির্ব্যতিতরিষ্যতি।
তদা গন্তাসি নির্বেদং শ্রোতব্যস্য শ্রুতস্য চ॥ ২-৫২
যখন তোমার বুদ্ধি মোহরূপ কর্দম সম্পূর্ণরূপে অতিক্রম করবে, তখন তুমি শ্রুত এবং শ্রোতব্য ইহলোক এবং পরলোক সম্পর্কীয় সমস্ত বিষয়ভোগে বৈরাগ্যপ্রাপ্ত হবে। ২/৫২
श्रुतिविप्रतिपन्ना ते यदा स्थास्यति निश्चला।
समाधावचला बुद्धिस्तदा योगमवाप्स्यसि॥२-५३॥
শ্রুতিবিপ্রতিপন্না তে যদা স্থাস্যতি নিশ্চলা।
সমাধাবচলা বুদ্ধিস্তদা যোগমবাপ্স্যসি॥ ২-৫৩
নানা কথার দ্বারা বিক্ষিপ্ত তোমার বুদ্ধি যখন পরমাত্মায় স্থির হবে, তখন তুমি যোগপ্রাপ্ত হবে অর্থাৎ পরমাত্মার সঙ্গে তোমার নিত্য সংযোগ স্থাপিত হবে। ২/৫৩
अर्जुन उवाच
स्थितप्रज्ञस्य का भाषा समाधिस्थस्य केशव।
स्थितधीः किं प्रभाषेत किमासीत व्रजेत किम्॥२-५४॥
অর্জুন উবাচ
স্থিতপ্রজ্ঞস্য কা ভাষা সমাধিস্থস্য কেশব।
স্থিতধীঃ কিং প্রভাষেত কিমাসীত ব্রজেত কিম্॥ ২-৫৪
অর্জুন বললেন, হে কেশব! সমাধিতে স্থিত পরমাত্মাকে প্রাপ্ত স্থিরবুদ্ধি ব্যক্তির লক্ষণ কী? স্থিতধী ব্যক্তি কীভাবে কথা বলেন? কীরূপে অবস্থান করেন? কীভাবে চলেন? ২/৫৪
श्रीभगवानुवाच
प्रजहाति यदा कामान्सर्वान्पार्थ मनोगतान्।
आत्मन्येवात्मना तुष्टः स्थितप्रज्ञस्तदोच्यते॥२-५५॥
শ্রীভগবানুবাচ
প্রজহাতি যদা কামান্ সর্বান্ পার্থ মনোগতান্।
আত্মন্যেবাত্মনা তুষ্টঃ স্থিতপ্রজ্ঞস্তদোচ্যতে॥ ২-৫৫
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে অর্জুন! যখন যোগী মন থেকে সমস্ত কামনা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করেন এবং আত্মা দ্বারা আত্মাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, তখন তাকে স্থিতপ্রজ্ঞ বলা হয়। ২/৫৫
दुःखेष्वनुद्विग्नमनाः सुखेषु विगतस्पृहः।
वीतरागभयक्रोधः स्थितधीर्मुनिरुच्यते॥२-५६॥
দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ।
বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর্মুনিরুচ্যতে॥ ২-৫৬
যার চিত্ত দুঃখে উদ্বিগ্ন হয় না, সুখে স্পৃহাহীন এবং যার আসক্তি, ভয় ও ক্রোধ নিবৃত্ত হয়েছে, তাঁকে স্থিতপ্রজ্ঞ মুনি বলা হয়। ২/৫৬
यः सर्वत्रानभिस्नेहस्तत्तत्प्राप्य शुभाशुभम्।
नाभिनन्दति न द्वेष्टि तस्य प्रज्ञा प्रतिष्ठिता॥२-५७॥
যঃ সর্বত্রানভিস্নেহস্তত্তৎ প্রাপ্য শুভাশুভম্।
নাভিনন্দতি ন দ্বেষ্টি তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥ ২-৫৭
যিনি সকল বস্তু ও ব্যক্তিতে আসক্তিশূন্য এবং শুভ ও অশুভ বস্তুর প্রাপ্তিতে প্রসন্ন হন না বা দ্বেষ করেন না, তিনিই স্থিতপ্রজ্ঞ। ২/৫৭
यदा संहरते चायं कूर्मोऽङ्गानीव सर्वशः।
इन्द्रियाणीन्द्रियार्थेभ्यस्तस्य प्रज्ञा प्रतिष्ठिता॥२-५८॥
যদা সংহরতে চায়ং কূর্মোঽঙ্গানীব সর্বশঃ।
ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেভ্যঃ তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥ ২-৫৮
কচ্ছপ যেমন নিজের হস্ত-পদাদি অঙ্গসমূহ সংহরণ করে নেয়, সেইরূপ যিনি ইন্দ্রিয়াদির বিষয় হতে ইন্দ্রিয়দের সর্বপ্রকারে সংহরণ করেন, তাঁকেই স্থিতপ্রজ্ঞ বলে জানবে। ২/৫৮
विषया विनिवर्तन्ते निराहारस्य देहिनः।
रसवर्जं रसोऽप्यस्य परं दृष्ट्वा निवर्तते॥२-५९॥
বিষয়া বিনিবর্তন্তে নিরাহারস্য দেহিনঃ।
রসবর্জং রসোঽপ্যস্য পরং দৃষ্ট্বা নিবর্ততে॥ ২-৫৯
ইন্দ্রিয়াদির দ্বারা বিষয় উপভোগে অপ্রবৃত্ত ব্যক্তির বিষয়ভোগ নিবৃত্ত হলেও ইন্দ্রয়াদির বিষয়াসক্তি নিবৃত্ত হয় না। কিন্তু স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির আসক্তি পরমাত্মার সাক্ষাৎ লাভে সর্বতোভাবে দূর হয়। ২/৫৯
यततो ह्यपि कौन्तेय पुरुषस्य विपश्चितः।
इन्द्रियाणि प्रमाथीनि हरन्ति प्रसभं मनः॥२-६०॥
যততো হ্যপি কৌন্তেয় পুরুষস্য বিপশ্চিতঃ।
ইন্দ্রিয়াণি প্রমাথীনি হরন্তি প্রসভং মনঃ॥ ২-৬০
হে অর্জুন! আসক্তি সর্বতোভাবে দূর না হলে চিত্ত-আলোড়নকারী ইন্দ্রিয়গুলো যত্নশীল বুদ্ধিমান ব্যক্তির মনকেও বলপূর্বক হরণ করে। ২/৬০
तानि सर्वाणि संयम्य युक्त आसीत मत्परः।
वशे हि यस्येन्द्रियाणि तस्य प्रज्ञा प्रतिष्ठिता॥२-६१॥
তানি সর্বাণি সংযম্য যুক্ত আসীত মৎপরঃ।
বশে হি যস্যেন্দ্রিয়াণি তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥ ২-৬১
অতএব যোগী ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত করে সমাহিত চিত্তে মৎপরায়ণ হয়ে অবস্থান করবেন। কারণ যার ইন্দ্রিয় বশীভূত, তাঁরই বুদ্ধি স্থির হয়। ২/৬১
ध्यायतो विषयान्पुंसः सङ्गस्तेषूपजायते।
सङ्गात्सञ्जायते कामः कामात्क्रोधोऽभिजायते॥२-६२॥
ধ্যায়তো বিষয়ান্ পুংসঃ সঙ্গস্তেষূপজায়তে।
সঙ্গাৎ সংজায়তে কামঃ কামাৎ ক্রোধোঽভিজায়তে॥ ২-৬২
বিষয়চিন্তা করতে করতে মানুষের ঐ বিষয়ে আসক্তি জন্মায়, আসক্তি হতে কামনা উৎপন্ন হয় এবং কামনায় বাধা পরলে ক্রোধের জন্ম হয়। ২/৬২
क्रोधाद्भवति सम्मोहः सम्मोहात्स्मृतिविभ्रमः।
स्मृतिभ्रंशाद् बुद्धिनाशो बुद्धिनाशात्प्रणश्यति॥२-६३॥
ক্রোধাদ্ভবতি সম্মোহঃ সম্মোহাৎ স্মৃতিবিভ্রমঃ।
স্মৃতিভ্রংশাদ্ বুদ্ধিনাশো বুদ্ধিনাশাৎ প্রণশ্যতি॥ ২-৬৩
ক্রোধ হতে মূঢ়ভাব অর্থাৎ অবিবেক উৎপন্ন হয়, মূঢ়ভাব হতে স্মৃতিবিভ্রম হয়, স্মৃতিনাশ থেকে বুদ্ধির নাশ হয় এবং বুদ্ধি নাশ হলে ব্যক্তির স্বীয় অবস্থান থেকে পতন হয়। ২/৬৩
रागद्वेषविमुक्तैस्तु विषयानिन्द्रियैश्चरन्।
आत्मवश्यैर्विधेयात्मा प्रसादमधिगच्छति॥२-६४॥
রাগদ্বেষবিযুক্তৈস্তু বিষয়ানিন্দ্রিয়ৈশ্চরন্।
আত্মবশ্যৈর্বিধেয়াত্মা প্রসাদমধিগচ্ছতি॥ ২-৬৪
কিন্তু সংযত ব্যক্তি আসক্তি ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হন। তিনি নিজের বশীভূত ইন্দ্রিয়-মন দিয়ে অপরিহার্য বিষয়সমূহ উপভোগ করেন ও প্রসন্নতা লাভ করেন। ২/৬৪
प्रसादे सर्वदुःखानां हानिरस्योपजायते।
प्रसन्नचेतसो ह्याशु बुद्धिः पर्यवतिष्ठते॥२-६५॥
প্রসাদে সর্বদুঃখানাং হানিরস্যোপজায়তে।
প্রসন্নচেতসো হ্যাশু বুদ্ধিঃ পর্যবতিষ্ঠতে॥ ২-৬৫
চিত্তের প্রসন্নতার ফলে তাঁর সমস্ত দুঃখ নাশ হয়। সেই প্রসন্নচিত্ত কর্মযোগীর বুদ্ধি অচিরে সর্বদিক হতে নিবৃত্ত হয়ে পরমাত্মাতে স্থির হয়। ২/৬৫
नास्ति बुद्धिरयुक्तस्य न चायुक्तस्य भावना।
न चाभावयतः शान्तिरशान्तस्य कुतः सुखम्॥२-६६॥
নাস্তি বুদ্ধিরযুক্তস্য ন চাযুক্তস্য ভাবনা।
ন চাভাবয়তঃ শান্তিঃ অশান্তস্য কুতঃ সুখম্॥ ২-৬৬
যার মন এবং ইন্দ্রিয় নিজের বশে নেই তার আত্মজ্ঞান হয় না এবং আত্মবিষয়ে চিন্তাও হয় না। আত্মচিন্তা বর্জিত মানুষের শান্তি অসম্ভব। আর শান্তি বিনা মানুষের সুখ কোথায়? ২/৬৬
इन्द्रियाणां हि चरतां यन्मनोऽनुविधीयते।
तदस्य हरति प्रज्ञां वायुर्नावमिवाम्भसि॥२-६७॥
ইন্দ্রিয়াণাং হি চরতাং যন্মনোঽনুবিধীয়তে।
তদস্য হরতি প্রজ্ঞাং বায়ুর্নাবমিবাম্ভসি॥ ২-৬৭
কারণ জলের মধ্যে বিচরণশীল নৌকাকে যেমন বায়ু বিচলিত করে, তেমনি বিষয়ভোগে বিচরণকারী ইন্দ্রিয়সমূহের মধ্যে মন যেটিতে আকৃষ্ট হয় সেই ইন্দ্রিয়টিই অযুক্ত পুরুষের বুদ্ধি হরণ করে। ২/৬৭
तस्माद्यस्य महाबाहो निगृहीतानि सर्वशः।
इन्द्रियाणीन्द्रियार्थेभ्यस्तस्य प्रज्ञा प्रतिष्ठिता॥२-६८॥
তস্মাদ্ যস্য মহাবাহো নিগৃহীতানি সর্বশঃ।
ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেভ্যঃ তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা॥ ২-৬৮
সেইজন্য হে মহাবীর অর্জুন! যাঁর ইন্দ্রিয়গুলি ইন্দ্রয়াদির ভোগ্য বিষয় হতে সম্পূর্ণভাবে নিবৃত্ত হয়েছে, তাঁরই প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানবে। ২/৬৮
या निशा सर्वभूतानां तस्यां जागर्ति संयमी।
यस्यां जाग्रति भूतानि सा निशा पश्यतो मुनेः॥२-६९॥
যা নিশা সর্বভূতানাং তস্যাং জাগর্তি সংযমী।
যস্যাং জাগ্রতি ভূতানি সা নিশা পশ্যতো মুনেঃ॥ ২-৬৯
সাধারণ প্রাণীর পক্ষে যা রাত্রির সমান, স্থিতপ্রজ্ঞ যোগী তাতে জাগ্রত থাকেন। আর বিনাশশীল জাগতিক সুখ প্রাপ্তির আশায় সমস্ত প্রাণী যাতে জাগরিত থাকে, পরমাত্ম-তত্ত্বজ্ঞানী মুনির কাছে তা রাত্রির সমান। ২/৬৯
आपूर्यमाणमचलप्रतिष्ठं
समुद्रमापः प्रविशन्ति यद्वत्।
तद्वत्कामा यं प्रविशन्ति सर्वे
स शान्तिमाप्नोति न कामकामी॥२-७०॥
আপূর্যমাণমচলপ্রতিষ্ঠং
সমুদ্রমাপঃ প্রবিশন্তি যদবৎ।
তদ্বৎ কামা যং প্রবিশন্তি সর্বে
স শান্তিমাপ্নোতি ন কামকামী॥ ২-৭০
যেমন বিভিন্ন নদীর জল পরিপূর্ণ অচল, স্থির সমুদ্রে এসে তাকে বিচলিত না করেই বিলীন হয়ে যায় তেমনই সমস্ত বিষয়ভোগও যাঁর মধ্যে কোন বিকার উৎপন্ন না করে বিলীন হয়, তিনিই পরমশান্তি লাভ করেন। কিন্তু যিনি ভোগ্যপদার্থ কামনা করেন, তাঁর পক্ষে শান্তি লাভ অসম্ভব। ২/৭০
विहाय कामान्यः सर्वान्पुमांश्चरति निःस्पृहः।
निर्ममो निरहङ्कारः स शान्तिमधिगच्छति॥२-७१॥
বিহায় কামান্যঃ সর্বান্ পুমাংশ্চরতি নিঃস্পৃহঃ।
নির্মমো নিরহঙ্কারঃ স শান্তিমধিগচ্ছতি॥ ২-৭১
যে ব্যক্তি সমস্ত কামনা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা, অহঙ্কার ও মমতাশূন্য হয়ে বিচরণ করেন, সেই ব্যক্তিই পরম শান্তি লাভ করেন। ২/৭১
एषा ब्राह्मी स्थितिः पार्थ नैनां प्राप्य विमुह्यति।
स्थित्वास्यामन्तकालेऽपि ब्रह्मनिर्वाणमृच्छति॥२-७२॥
এষা ব্রাহ্মী স্থিতিঃ পার্থ নৈনাং প্রাপ্য বিমুহ্যতি।
স্থিত্বাস্যামন্তকালেঽপি ব্রহ্মনির্বাণমৃচ্ছতি॥ ২-৭২
হে অর্জুন! একেই ব্রহ্মনিষ্ঠায় অবস্থিতি বলে। এই স্থিতি লাভের পর সেই ব্যক্তি আর সংসার-মায়ায় মোহগ্রস্ত হন না। মৃত্যুকালেও এই নিষ্ঠাতে স্থিত হয়ে থাকলে তাঁর ব্রহ্মনির্বাণ লাভ হয়। ২/৭২
ॐ तत्सदिति श्रीमद्भगवद्गीतासूपनिषत्सु
ब्रह्मविद्यायां योगशास्त्रे श्रीकृष्णार्जुनसंवादे
साङ्ख्ययोगो नाम द्वितीयोऽध्यायः ॥ २॥
ওঁতৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসু উপনিষৎসু
ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে
সাংখ্যযোগো নাম দ্বিতীয়োঽধ্যায়ঃ।।
ওঁ তৎ সৎ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতারূপী উপনিষদ্ তথা ব্রহ্মবিদ্যাবিষয়ক যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণ-অর্জুন সংবাদে ‘সাংখ্যযোগ’ নামক দ্বিতীয় অধ্যায় সম্পূর্ণ হল।